আজকে প্রকাশিত চাকরির পরীক্ষার নোটিশ গুলো পাবেন

ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে জানি

ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে জানি


☞☞☞ভাষার জরিপ প্রকাশকারী সংস্থা অ্যাথনোলোগের (ethnologue) সর্বশেষ তথ্য মতে, পৃথিবীতে মোট সাত হাজার ৯৯টি ভাষা বর্তমানে চলমান। ভাষার শুরুটা কিভাবে হয়েছে, কিভাবে এতগুলো ভাষার জন্ম হয়েছে, কিভাবে ভাষার ক্রমবিকাশ ঘটেছে, এ নিয়ে ভাষাবিজ্ঞানীদের বিরোধের অন্ত নেই। বহু আগ থেকেই এ বিরোধ চলে আসছে। প্রত্যেকে নিজ নিজ চিন্তা, দর্শন ও বিশ্বাসের আলোকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। চার্লস ডারউইন বলেছেন, ‘এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ভাষার উৎপত্তি হয়েছে বিভিন্ন প্রাকৃতিক শব্দের ইঙ্গিত, প্রাণীদের আওয়াজ ও মানুষের স্বভাবগত উচ্চারিত ধ্বনির অনুসরণ ও সংশোধন করে।’

☞☞☞৮০ লক্ষ বছর আগে আফ্রিকার কিছু জঙ্গলে বাস করত এপ-জাতীয় কিছু প্রাণী। এই এপ-জাতীয় প্রাণীগুলির মধ্যে শিম্পাঞ্জি ও মানুষদের পূর্বপুরুষও ছিল। এরা সম্ভবত ছিল বর্তমান গরিলাদের মত। এরা মূলত বৃক্ষে বসবাস করত, মাটিতে চার পায়ে হাঁটত এবং বিশ-ত্রিশটার মত ভিন্ন ডাকের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করত। আজ থেকে ২০ লক্ষ বছর আগে মানুষের পূর্বপুরুষ প্রাণীটি শিম্পাঞ্জিদের পূর্বপুরুষ থেকে আলাদা হয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন যে এই প্রাণীগুলির ভাষা ছিল তুলনামূলকভাবে বেশ উন্নত; কিন্তু মানুষদের এই আদি পূর্বপুরুষদের ভাষার প্রকৃতি সম্পর্কে খুব কমই জানতে পারা গেছে। আধুনিক মানুষ তথা Homo Sapiens-এর ভাষার উৎস নিয়ে বিংশ শতাব্দীর বেশির ভাগ সময় ধরেই তেমন গবেষণা হয়নি। কেবল অতি সম্প্রতি এসেই এ বিষয়ে নৃবিজ্ঞানী, জিনবিজ্ঞানী, প্রাইমেটবিজ্ঞানী এবং স্নায়ুজীববিজ্ঞানীদের আহরিত তথ্য কিছু কিছু ভাষাবিজ্ঞানী খতিয়ে দেখছেন।

বিশ্বের অনেক ধর্মেই ভাষার উৎস সম্পর্কে বলা হয়েছে। ইহুদী-খ্রিস্টান-ইসলাম ধর্মের ধারায় বলা হয়, ঈশ্বর প্রথম মানুষ আদমকে বিশ্বের যাবতীয় পশু-পাখীর উপর কর্তৃত্ব দেন, এবং আদম এই সব পশু-পাখির একটি করে নাম দেন; এটি ছিল আদমের ভাষাজ্ঞানের প্রথম বড় প্রয়োগ। বর্তমানে পৃথিবীতে ভাষার প্রাচুর্যের কারণ হিসেবে বাবেলের মিনারের কাহিনীর উল্লেখ করা হয়; এই কাহিনী অনুসারে বর্তমান পৃথিবীতে ভাষার প্রাচুর্য ও বৈচিত্র্য হল মানুষের ঔদ্ধত্যের শাস্তি। এই ধর্মীয় কাহিনীগুলি অতীতে মেনে নেয়া হলেও বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে ভাষার উৎসের একটি প্রাকৃতিক, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

১৮শ শতকের বেশ কিছু ইউরোপীয় দার্শনিক যেমন জঁ-জাক রুসো, কোঁদিয়াক, হার্ডার, প্রমুখ মনে করতেন ভাষার উৎস নির্ণয় করা খুব কঠিন কোন কাজ নয়। ভাষা যে মানুষের লিখিত ইতিহাসের চেয়ে বহু প্রাচীন, এ ব্যাপারটিকে তারা তেমন আমল দেননি। তাঁরা মনে করেছিলেন, ভাষাহীন মানুষ কীভাবে বসবাস করত, তা মনের পর্দায় গভীরভাবে কল্পনা করে যৌক্তিকভাবে এগোলেই ভাষার কীভাবে উৎপত্তি হল, সে বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, এই অনুমানগুলির মধ্যে কোন ঐকমত্য নেই। ১৯শ শতকে ভাষার উৎস নিয়ে এমন সব উদ্ভট, কল্পনাপ্রসূত তত্ত্বের অবতারণা করা হয়েছিল, যে ১৮৬৬ সালে প্রতিষ্ঠালগ্নে প্যারিসের ভাষাতাত্ত্বিক সমিতি একটি নির্ভরযোগ্য সংগঠন হিসেবে নিজেদের গুরুত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাদের সমিতিতে ভাষার উৎস সংক্রান্ত যেকোন গবেষণাপত্র পাঠে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। আজও বেশির ভাগ ভাষাবিজ্ঞানী ভাষার উৎস সম্পর্কে তেমন আগ্রহী নন, কেননা তাদের মতে ভাষার উৎস নিয়ে যেকোন ধরনের সিদ্ধান্ত এতটাই কল্পনাপ্রসূত যে এগুলিকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বের সাথে নেয়া সম্ভব নয়।

১৯৬০-এর দশক থেকে নোম চম্‌স্কির প্রবর্তিত ধারণাগুলি ব্যাকরণের তত্ত্বকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। চম্‌স্কির মতে ভাষাবিজ্ঞানের কেন্দ্রীয় একটি প্রশ্ন হল মস্তিষ্কে অন্তর্নিহিত যে ক্ষমতাবলে মানুষ তার জীবনের প্রথম বছরগুলিতে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে দক্ষভাবে কোন ভাষায় কথা বলার ক্ষমতা অর্জন করে, সেই জৈবিক ক্ষমতার প্রকৃতি কী? এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভাষার উৎসের গবেষণা বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞানের একটি অংশ বলেই মনে হয়। কীভাবে আদি মানুষের মধ্যে এই অন্তর্নিহিত ক্ষমতার বিকাশ ঘটেছিল? অন্যান্য প্রাইমেটদের মধ্যে কীভাবে এর বিবর্তন ঘটে? চম্‌স্কি নিজে অবশ্য বেশ স্পষ্টভাবেই ভাষার বিবর্তন নিয়ে গবেষণাকে নিরুৎসাহিত করেছেন। ফলে চমস্কীয় ভাষাবিজ্ঞানীরা এক ধরনের স্ববিরোধিতার মধ্যে কাজ করছেন। তাঁরা সব ভাষাকে একটিমাত্র বিশ্বজনীন ব্যাকরণের আওতায় এনে ব্যাখ্যা করতে চাইছেন, যে ব্যাকরণের উৎস হল মানুষের অন্তর্নিহিত ভাষিক ক্ষমতা। অথচ এই ক্ষমতাটির উদ্ভব ও বিকাশ কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে তাঁরা খুব একটা চিন্তিত নন। ইদানীং স্টিভেন পিংকার-সহ আরও কিছু বিজ্ঞানী এই নিরুদ্বেগ কাটিয়ে ভাষার উৎসের ব্যাপারে মনোযোগী হয়েছেন।
ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে জানি

ইন্টারনেটে ভাষার ব্যবহার


সারা বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ওপর গবেষণার কিছু তথ্য-উপাত্ত নিচে দেখানো হলো—

> আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে ইংলিশ ভাষার স্বীকৃতি বিশ্বব্যাপী। ইন্টারনেট ব্যবহারেও এর প্রভাব লক্ষণীয়। তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারে ইংরেজি ভাষা শীর্ষস্থান দখল করে আছে। এর ব্যবহারকারী পাওয়া ৮৭২.৯ মিলিয়ন এবং আনুপাতিক হার ২৫.৯%।

> চাইনিজ ভাষা কঠিন হলেও এর ব্যবহারকারী অনেক। ইন্টারনেট ব্যবহারে চাইনিজ ভাষার ব্যবহারকারী প্রায় ৭০৪.৫ মিলিয়ন। এর আনুপাতিক হার ২০.৯%। চীনের জনসংখ্যা অনুযায়ী এর হার কমই বলা চলে।

> স্প্যানিশ ভাষা তৃতীয় স্থান ধরে রেখেছে। সারা বিশ্বে ২৫৬.৮ মিলিয়ন মানুষ এ ভাষায় ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে। যার আনুপাতিক হার ৭.৬%।

> প্রায় ১৬৮.১ মিলিয়ন অ্যারাবিক ভাষার ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে। আনুপাতিক হার ৫.০%।

> ইন্টারনেট ব্যবহারের ঘোর দৌড়ে পর্তুগিজও কম যায় না। প্রায় ১৩১.৯ মিলিয়ন পর্তুগিজ ভাষাভাষী ইন্টারনেট ব্যবহার করে। যার আনুপাতিক হার ৩.৯%।

> ইন্টারনেটে জাপানিজ ভাষা ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রায় ১১৪.৯ মিলিয়ন মানুষ ইন্টারনেটে এ ভাষা ব্যবহার করে থাকে। আনুপাতিক হার ৩.৪%।

> বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি রাশিয়া ইন্টারনেট ব্যবহারে পিছিয়ে। এর ব্যবহারকারী ১০৩.১ মিলিয়ন। আনুপাতিক হার ৩.১%।

> ইন্টারনেট ব্যবহারে ইন্দোনেশিয়ানরাও পিছিয়ে নেই। ই-বিশ্বায়নে এ ভাষার ব্যবহারকারী ৯৮.৯ মিলিয়ন। আনুপাতিক হার ২.৯%।

> গোটা বিশ্বে প্রায় ৯৭.২ মিলিয়ন ফ্রেঞ্চ ভাষার ব্যবহারকারী রয়েছে। যা বিশ্ব জনসংখ্যায় ২.৯%।

> ইন্টারনেটে জার্মান ভাষার ব্যবহারকারী প্রায় ৮৩.৭ মিলিয়ন। যা বিশ্ব জনসংখ্যার ২.৫%।

> এই তো গেল ইন্টারনেট ব্যবহারের সর্বাধিক ব্যবহূত ভাষা। আনুপাতিক হিসাবে এখনো কিছুটা বাকি আছে। পৃথিবীর বাকি ভাষাগুলোর ব্যবহারকারী প্রায় ৭৩৪ মিলিয়ন এবং এর আনুপাতিক হার ২১.৮%। এ ভাষার মধ্যেই আমাদের মাতৃভাষা বাংলার ব্যবহারকারী রয়েছে।



অন্তর্জালে বাংলার উৎসব

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মনের ভাবগুলো বন্ধুদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এখন বাংলার ব্যবহার ব্যাপক লক্ষণীয়

পৃথিবীর সর্বত্রই এখন বাংলার জয়গান। ইন্টারনেটে বাংলা ভাষার ব্যবহারও দিন দিন বাড়ছে। তথ্য সংগ্রহ কিংবা ছড়িয়ে দিতে বাংলার জয়-জয়কার। সময় এখন ফেসবুক, টুইটার, হাইফাইভ, ইউটিউব, ব্লগস্টারসহ আরও অনেক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের। এসব মাধ্যমে মনের ভাবগুলো বন্ধুদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলার ব্যবহার ব্যাপক লক্ষণীয়। বেশ কয়েক বছর আগেও  লাইক, কমেন্ট, স্ট্যাটাসে বাংলার ব্যবহার ছিল না। আর এখন এগুলোতে বাংলা হরহামেশাই উচ্চারিত হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৯৫ ভাগ মানুষ মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। যার বেশির ভাগই ফেসবুক ব্যবহারকারী। আমাদের দেশে ফেসবুক ও ব্লগ বেশ জনপ্রিয়। বাড়ছে ইউটিউবের ব্যবহার, ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে টুইটারও। এতে স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করা যাচ্ছে পছন্দের বাংলা ভাষা।


পৃথিবীর প্রচলিত ভাষাসমূহের একটি পরিসংখ্যান


ভাষা বলতে সাধারণত বুঝায় মানুষের এমন প্রাকৃতিক ভাবসমূহকে যার মাধ্যমে মানুষ পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা করে। ভাষা মানুষে-মানুষে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। ভাষার কতটুকু মানুষের জন্মগত বৈশিষ্ট্য আর কতটুকু পরিবেশনির্ভর তা আলোচনাসাপেক্ষ। তবে এটা নিশ্চিত যে, মানুষমাত্রেই ভাষা অর্জনের মানসিক ক্ষমতা নিয়ে জন্মায় এবং একবার ভাষার মূলসূত্র আয়ত্ব করার পর সারা জীবন সে নিত্য-নতুন বাক্য ব্যবহার করার ক্ষমতা অর্জন করে। এরকম অসীম প্রকাশক্ষমতাসম্পন্ন ভাষা একান্তই একটি মানবিক বৈশিষ্ট্য।

ভাষার প্রধানত দু’টি রূপ। মৌখিক ও লৈখিক (linguistic sign)।

ভাষার লৈখিক রূপের অন্তত ১০ হাজার বছর পূর্বে মৌখিক রূপের উন্মেষ ঘটে। হযরত আদম (আঃ)-কে আল্লাহ রাববুল আলামীন জান্নাতে বাকশক্তি দ্বারা বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেন এবং পৃথিবীর সমস্ত কিছুর নাম শিক্ষা দান করেন। তাঁর ভাষা ছিল আরবী। পৃথিবীতে আগমনের পর আদম (আঃ)-এর সন্তানরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ায় ভাষার ব্যবহারের বিভিন্নতা সৃষ্টি হতে থাকে। প্রতিনিয়ত বিবর্তনের পথ ধরে আরবী ভাষার হাজারো নতুন নতুন রূপ তৈরী হয়। সৃষ্টি হয় স্বতন্ত্র ভাষাসমূহ। যেহেতু আরবী থেকে সকল ভাষার উৎপত্তি, সেজন্য আরবীকে সকল ভাষার মা বলে আখ্যায়িত করা হয়।

ভাষার এই বিবর্তন ধারা এতটাই গতিশীল যে, ভাষাবিজ্ঞানীরা বলে থাকেন প্রতি ১০ কি. মি. অন্তর মানুষের ভাষা ও তার উচ্চারণ পদ্ধতির বিভিন্নতা তৈরী হয়। প্রাণীজগতের প্রতিটি সামাজিক প্রজাতি পারস্পরিক যোগাযোগ করে নিজস্ব ভাষা বা সংকেতের মাধ্যমে। মৌমাছি থেকে শুরু করে তিমি পর্যন্ত সকল প্রাণীর মাঝে এই বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কিন্তু একমাত্র মানুষের মাঝেই এমন একটি ভাষার উন্মেষ ঘটেছে যার সাদৃশ্য আর কোন প্রাণীর মাঝে নেই। এর গাঠনিক বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে এই ভাষা সৃষ্টি হয় যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যুত্তর করে না; বরং এমন এক অর্থপূর্ণ ধ্বনি ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করে যা সম্পূর্ণ বুদ্ধি-বিবেকপ্রসূত। মানবমস্তিষ্কের এই দিকটি অন্য প্রাণীকুল থেকে একেবারেই ভিন্নধর্মী।

ভাষার প্রাচীন ইতিহাস দুষ্প্রাপ্য। কেননা মাত্র ২০০ বছর পূর্বে ভাষা নিয়ে স্বতন্ত্র গবেষণার সূচনা হয়েছে। বর্তমান পৃথিবীতে প্রচলিত ভাষার সংখ্যা মোটামুটি ৫০০০-এর মতো (অবশ্য আমেরিকান সংস্থা ‘এথনোলগ’-এর ২০০৯ সালের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে জীবিত ভাষার(অর্থাৎ যে ভাষাকে কমপক্ষে একজন ব্যক্তি ১ম ভাষা হিসাবে ব্যবহার করে।) সংখ্যা মোট ৬৯০৯টি; এশিয়া= ২৩২২টি, আফ্রিকা= ২১১০টি, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল= ১২৫০টি, ইউরোপ= ২৩৪টি, আমেরিকা=৯৯৩টি)। বিশেষজ্ঞরা এসব ভাষাকে কতিপয় ভাষাগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন। যার উল্লেখযোগ্য সংখ্যা প্রায় বিশটির মত। অর্থাৎ এ সকল মৌলিক ভাষাগোষ্ঠীরই শাখা-প্রশাখা হল প্রচলিত সব ভাষা। এর মধ্যে সর্বাধিক বিস্তৃতি লাভকারী ও সমৃদ্ধ ভাষাগোষ্ঠী হল ইন্দো-ইউরোপিয়ান। বর্তমান পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক মানুষের ভাষা এই ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। বিশেষজ্ঞদের ধারণামতে হিন্দী-ফার্সী থেকে শুরু করে নরওয়েজিয়ান ও ইংলিশ পর্যন্ত সকল ভাষা খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ বছর পূর্বে উত্তর ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার (বর্তমান ইউক্রেন ও পার্শ্ববর্তী এলাকা)  সমতলভূমিতে বিচরণকারী যাযাবর জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে উদ্গত। বিশেষজ্ঞরা এই ভাষাকে ইন্দো-ইউরোপিয়ান নামকরণ করেছেন। আরেকটি ভাষাগোষ্ঠী- যেটি পশ্চিম এশিয়া জুড়ে অদ্যাবধি প্রভাব বিস্তার করে রয়েছে- সেটি হল সেমেটিক ভাষাগোষ্ঠী। এটিও খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ বছর পূর্বে দক্ষিণ আরবে বসবাসকারী যাযাবর শ্রেণীর ভাষা বলে অনুমান করা হয়। দক্ষিণ আরব থেকে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত এলাকা জুড়ে সেমেটিক ভাষাভাষী জাতি সৃষ্টি করেছিল একে একে ব্যবিলনীয়, এ্যসিরীয়, হিব্রু ও ফিনিশীয় সভ্যতা। যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে কিছুকালের জন্য আরামাইক নামক এক সেমেটিক ভাষা সার্বজনীন প্রভাব বিস্তার করেছিল।    

ভাষার ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় যে, ভাষাসমূহ পরস্পরের প্রভাবে প্রভাবান্বিত হয়ে অগ্রসর হয়েছে। রাজ্যজয়, বাণিজ্য, ধর্ম, প্রযুক্তি বা বর্তমান যুগে বিনোদন উপকরণের বিশ্বায়ন প্রভৃতি অনুষঙ্গ ভাষার অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। যেমন রোমান সাম্রাজ্যের প্রভাবে জার্মানিক ভাষাসমূহ (ইংলিশ, ডাচ, জার্মান, ডেনিশ, নরওয়েজিয়ান, সুইডিশ, ফ্লেমিশ, আইসল্যান্ডিক) থেকে পৃথক হয়ে ল্যাটিন/রোমান্স (প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের ভাষা) ভাষাসমূহ (ইটালিয়ান, ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ, পর্তুগিজ, রোমানিয়ান) স্বতন্ত্র রূপ নিয়েছে। আবার ইংল্যান্ডে তিনশত বছর রাজত্ব করলেও রোমানরা সেখানকার জার্মান গোত্রসমূহ, এঙ্গেলস (প্রাচীন জার্মানিক জনগোষ্ঠী যারা ইংল্যান্ডের গোড়াপত্তন করেছিল) ও স্যাক্সনদের (৫ম ও ৬ষ্ঠ খৃষ্টীয় শতাব্দীতে যেসব জার্মাানিক দক্ষিণ ইংল্যান্ডের অধিকাংশ এলাকা অধিকার করে সেখানে বসতি স্থাপন করেছিল) উপর শক্ত প্রভাব   বিস্তার করতে পারেনি। ফলে এখানকার ভাষা ‘এ্যংলো-স্যাক্সন’ নামে পৃথক রূপ লাভ করে। বর্তমান বিশ্বে ইন্দো-ইউরোপীয় গোষ্ঠীভুক্ত ভাষাসমূহ উত্তর থেকে দক্ষিণ আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক প্রভাবের কারণে।

এই দখলদারিত্ব সূত্রেই একদা যখন ফ্রেঞ্চরা ক্ষমতাবলে বিভিন্ন জাতির উপর প্রভাব বিস্তার করল, তখন ফ্রেঞ্চ ভাষা পরিণত হয় আর্ন্তজাতিক ভাষায় (লিঙ্গুয়া ফ্রান্সা)। পরবর্তীতে বৃটিশ ঔপনিবেশিকরা ফ্রেঞ্চদের হটিয়ে বিশ্বমঞ্চ দখল করে নিলে ইংলিশ ভাষা পরিণত হয় আন্তর্জাতিক ভাষায়, যার প্রতাপ আজ অবধি ক্রমবর্ধমান। অবশ্য ইতিহাসের পরিক্রমা সাক্ষ্য দেয় যে, ইংরেজীই চূড়ান্ত আন্তর্জাতিক ভাষা হিসাবে চিরস্থায়ী নয়; বরং আবার অন্য কোন ভাষা এর স্থান দখল করবে এবং তারও একসময় অবসান ঘটবে। বর্তমানে চাইনিজদের অর্থনৈতিক শক্তি যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে তাদের ভাষার পক্ষে নতুন সম্ভাবনা তৈরী হচ্ছে। যদিও ভাষাটির গাঠনিক কাঠিন্য এর আন্তর্জাতিক উপযোগিতার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা।

বিশ্বের প্রতিটি দেশেই একাধিক ভাষার অস্তিত্ব দেখা যায়। সরকারী ভাষা ও ২য় ভাষা হিসাবে এসব ভাষাকে চিহ্নিত করা হয়। বাংলাদেশে সরকারী ভাষা বাংলাসহ উপজাতীয় ভাষা, বিদেশী ভাষা মিলিয়ে ৪৬টি ভাষার অস্তিত্ব রয়েছে। পার্শ্ববর্তী ইন্ডিয়াতে রয়েছে ৪৪৫টি ভাষা। ইন্দোনেশিয়াতে ৭৭২টি। চীনে ২৯৬টি। পাকিস্তানে ৭৭টি। যুক্তরাষ্ট্রে ৩৬৪টি (বিদেশী ১৮৮টি)। যুক্তরাজ্যে ৫৬টি (বিদেশী ৪৪টি)। অষ্ট্রেলিয়ায় ২০৭ টি (বিদেশী ৪৮টি)।

অন্যদিকে প্রতিটি স্বতন্ত্র ভাষাও নিয়মিত নতুন নতুন শব্দ, বাগধারা সংযোজন-বিয়োজনের মাধ্যমে বিবর্তিত হচ্ছে। ফলে দেখা যায়, ষোল শতকের এলিজাবেথিয়ান ইংরেজীর সাথে আধুনিক ইংরেজীর বিরাট ফারাক। বাংলা ভাষার প্রাচীন নিদর্শনগুলোর সাথে আধুনিক বাংলার আকাশ-পাতাল তফাৎ। এভাবেই মানুষের সামাজিক-অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক অগ্রগতির সাথে সাথে ভাষাসমূহের বিবর্তনের রূপ প্রবলতরভাবে সুস্পষ্ট।  

মোটকথা নানা প্রক্রিয়ায় ভাষাসমূহ নিয়মিতই বিবর্তিত হচ্ছে এবং হবে। সৃষ্টিজগতের একমাত্র বাকসম্পন্ন প্রাণী মানবজাতির ভাষার এই বৈচিত্র আল্লাহ্র তা‘আলারই অসীম কুদরতের বহিঃপ্রকাশ।

ভাষাসমূহকে সুনির্দিষ্ট ব্যাকরণ দ্বারা সুসংহত করার প্রক্রিয়া সর্বপ্রথম দেখা যায় ইন্ডিয়ায়। খৃষ্টপূর্ব ৫ম শতকে পাণিনি নামক এক ব্যক্তি সংস্কৃত ভাষার ৩৯৫৯টি নিয়ম লিপিবদ্ধ করেন যা অষ্টাধ্যায়ী নামে পরিচিত। খৃষ্টপূর্ব ২য় শতকে তামিল ভাষার জন্য তোলকাপিয়াম নামক আরেক পন্ডিত ব্যাকরণ রচনা করেন। মধ্যপ্রাচ্যে ৭৬০ খৃষ্টাব্দে আরব বৈয়াকরণ সিবওয়াইহ সর্বপ্রথম আরবী ব্যাকরণ রচনা করেন। যার নাম ছিল ‘আল-কিতাব’। এই ব্যাকরণের মাধ্যমে ভাষাতাত্ত্বিক বহু জটিল দিক তিনি উন্মোচন করেন। তাঁর উদ্ভাবিত ধারাকে অনুসরণ করে পরবর্তীতে আরব ভাষাবিদরা নিয়মিতভাবে ব্যাকরণ চর্চার মাধ্যমে পরবর্তীতে কিছুকালের মধ্যেই আরবী ভাষাকে বিজ্ঞানভিত্তিক, সুশৃংখল, সুসমন্বিত ভাষায় পরিণত করেন। আরবী ভাষার পিছনে মুসলিম পন্ডিতদের অধ্যবসায় ছিল কিংবদন্তীতুল্য। তাদের অবিরত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আরবী ভাষা অন্যান্য ভাষার তুলনায় অনেক বেশী সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী ভাষা। তাছাড়া পবিত্র কুরআন আরবী ভাষায় লিখিত হওয়ায় এ ভাষার গাঠনিক কাঠামো ও বাহ্যিক প্রকাশরীতি বিগত পনেরশ’ বছর ধরে প্রায় অবিকৃতই রয়েছে, যা অন্য কোন ভাষার ক্ষেত্রে ঘটেনি।

পাশ্চাত্যে ব্যাকরণ চর্চা শুরু হয় আরো অনেক পরে। ষোড়শ শতকে পাশ্চাত্যে ভাষার ব্যাকরণ সম্পর্কিত আলোচনা ফিলোলজি (ভাষাতত্ত্ব) পরিভাষার অন্তরালে ব্যবহৃত হত। প্রকৃতার্থে ব্যাকরণ চর্চা সেখানে শুরু হয় যখন অষ্টাদশ শতকে বৃটিশ ইন্ডিয়ার মাধ্যমে সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্য পাশ্চাত্যের দোরগোড়ায় পেঁŠছাল। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের এই সুষম মেলবন্ধনে একই সাথে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর উদ্ভব এবং ভাষাসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক ও গাঠনিক সাদৃশ্য আবিষ্কৃত হয়। উইলিয়াম জোন্স, ফ্রেডরিখ শ্লেঘেল, ফ্রাঞ্জ বপ্, অগাষ্ট ফ্রেডরিখ পট্ প্রমুখ এক্ষেত্রে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেন। এরপর জ্যাকব গ্রিম রচনা করেন ডাচ ভাষার ব্যাকরণ ‘ডাচ গ্রামাটিক’। যাকে পাশ্চাত্যে সর্বপ্রথম বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাকরণ বই হিসাবে মর্যাদা দেয়া হয়। শীঘ্রই তাঁর অনুসরণে অন্যান্য ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষাতেও ব্যাকরণ রচিত হতে শুরু করে। অতঃপর জাভানিজ ভাষার ব্যাকরণ রচনা করে প্রুশিয়ার পন্ডিত উইলহেলম ভন হামবোল্ট (১৭৬৭-১৮৩৫) অন্যান্য ভাষাতেও ব্যাকরণ রচনার পথ অবারিত করেন। বিংশ শতাব্দীতে সুইস পন্ডিত ফার্ডিন্যান্ড ডি সশার ভাষার ধারণাকে ‘সেমানটিক কোড’  (অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও বাহ্যিক প্রকাশের মধ্যে পার্থক্য নিরূপক সংকেত) দ্বারা চিহ্নিত করেন। এভাবে আরো কিছু পন্ডিতের মৌলিক অবদানের মাধ্যমে ব্যাকরণ তথা ভাষাবিজ্ঞান একটি পূর্ণাঙ্গ শাস্ত্রে পরিণত হয়।




প্রধান প্রধান ১০টি ভাষাগোষ্ঠী (Language family) সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত একটি ধারণা


নিম্নে বিশ্বের প্রধান প্রধান ১০টি ভাষাগোষ্ঠী (Language family) সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত একটি ধারণা দেওয়া হল :

ইন্দো-ইউরোপীয় (৪২৬টি) : এই ভাষাপরিবারটির চারটি প্রধান শাখা রয়েছে : ইন্দো-ইরানীয়, রোমান্স, জার্মানীয় ও বাল্টো-স্লাভীয়। এই ভাষাপরিবারভুক্ত ভাষায় মানুষ সর্বাধিক কথা বলায় (প্রায় ২৭৩ কোটি) এ ভাষাগোষ্ঠীর উপরই সর্বাধিক গবেষণা হয়েছে। এ পরিবারের উল্লেখযোগ্য ভাষাগুলো- ইংরেজী, স্প্যানিশ, পর্তুগিজ, ফরাসি, ইতালীয়, জার্মান, রুশ, গ্রীক, ফার্সি, পশতু, উর্দূ, হিন্দী, বাংলা ইত্যাদি। এছাড়া প্রাচীন ধ্রুপদী ভাষা সংস্কৃত, ল্যাটিনও এই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।

উরালীয় (৩৫টি) : উরাল পর্বতের পাদদেশীয় ইউরোপ ও সাইবেরিয়ায় অবস্থিত এই ভাষাপরিবারের বিশেষ্যপদের সংগঠন জটিল। এ গোষ্ঠীর অন্তর্গত ভাষাগুলো- হাঙ্গেরীয়, ফিনীয়, মর্দভিন, সুইডিশ, নরওয়েজ ইত্যাদি।

আলতায়ীয় (৬৪টি) : তুরস্ক থেকে মধ্য এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ভাষা পরিবার। এর অন্তর্গত ভাষাগুলো- তুর্কি, উজবেক, মঙ্গোলীয় এবং (মতভেদে) কোরীয় ও জাপানীয়।

চীনা-তিববতী (৪৪৫টি) : বিশ্বের সবচেয়ে বেশী কথিত ভাষা মান্দারিন চীনা এই এশীয় ভাষা পরিবারের অন্তর্গত। এই ভাষাগুলো একাক্ষরিক ও সুরপ্রধান।

মালয়-পলিনেশীয় (১২৩১টি) : ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের বুক জুড়ে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে বিস্তৃত ভাষা পরিবার। এ গোষ্ঠীর অন্তুর্গত ভাষাগুলোর মাঝে আছে মালয়, ইন্দোনেশীয়, মাওরি ও হাওয়াই ভাষা।

আফ্রো-এশীয় (৩৫৩টি) : এই ভাষা পরিবারের ভাষাগুলো মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা জুড়ে বিস্তৃত। আরবী ও হিব্রু এদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ককেশীয় (৩৩টি) : কৃষ্ণ সাগর ও কাস্পিয়ান সাগরের মধ্যবর্তী ককেশাস পর্বতমালা অঞ্চলের ভাষাসমূহ এর অন্তর্ভুক্ত। জর্জীয়, চেচেন ভাষা এখানকার মূল ভাষা।

দ্রাবিড় (৮৪টি) : এগুলি দক্ষিণ ভারতের ভাষা। তামিল, তেলেগু, কন্নড, মালয়ালম ভাষা সবচেয়ে বেশী প্রচলিত চারটি দ্রাবিড় ভাষা।

অষ্ট্রো-এশীয় (১৬৯টি) : এশিয়ার বিচ্ছিন্ন ভাষাসমূহ। পূর্ব ভারত থেকে ভিয়েতনাম পর্যন্ত এদের বিস্তৃতি। ভিয়েতনামীয় ও খমের ভাষা অন্যতম উদাহরণ।

নাইজার-কঙ্গো (১৫১০টি) : সাহারা মরুভূমির দক্ষিণে কথিত আফ্রিকার ভাষাসমূহ নিয়ে এ পরিবার গঠিত। সোয়াহিলি, সহোনা, খোসা ও জুলু এই পরিবারের ভাষার উদাহরণ।              

☞ এই পোষ্ট সম্পর্কে যদি আপনার কোন প্রশ্ন☞জিজ্ঞাসা☞সমস্যা☞তথ্য জানার থাকে তাহলে আপনি☞কমেন্ট করলে আপনাকে আমরা প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করব☞☞☞ "ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে জানি "

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Iklan Atas Artikel

Iklan Tengah Artikel 1

Iklan Tengah Artikel 2

Iklan Bawah Artikel